নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠকে উপস্থিত থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বললেন ‘আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার ঘনিষ্টরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বললেন, আসলে তার বাস্তবতা কী? সত্যিই কি শেখ হাসিনার ঘনিষ্টজনদের নিয়ে ভয়, নাকি দ্রব্যমূল্যের যাতাকলে পিষ্ট আর অতিরিক্ত ভ্যাটের ভার সইতে না পারা দেশের জনগণ ফুঁসে ওঠার ভয়!
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো এখনো চলছে শ্রমিক ছাটাই। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা। শ্রমিক হারাচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান। তারপর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। গ্রামের চাষিদের কৃষি উপকরণ কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো তুলে দেয়া হলো না তাদের পাঠ্য।
এদিকে রিকশা-ভ্যান ইজিবাইক শ্রমিকেরা মাঠে নেমেছে তাদের কর্মসংস্থান বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে। গার্মেন্টস শ্রমিকেরা তো আগে থেকেই রাজপথে অবিচল রয়েছে তাদের বেতন আর বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি নিয়ে। এদের সাথে যুক্ত হতে পারে দেশের কৃষক জনতা! তাহলে আবার আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কি এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা আসছে!
মূলতঃ আওয়ামী লীগ বা তার দোসররা ঘুরে দাঁড়াবে, আর দেশের জনগণ সেটি নীরবে মেনে নেবে এমন বাস্তবতার আশঙ্কা হওয়ার কারণই বা কী! কারণ হতে পারে একটিই, তা হলো দেশের জনগণের অন্তরবর্তী সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসিআছে কি না, এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের জন্ম নিয়েছে খোদ সরকার প্রশাসনে। যার ফলে সরকার প্রধানের এই উদ্বেগ।
পরিশেষে বলা যায়, সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে জনগণের প্রতি সরকারের এই সন্দেহ খানিকটাই বাস্তব সম্মত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সেই নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, বাজার সিন্ডিকেট বর্তমান রয়েছে তো বটেই, বরং তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। তারপর শতাধিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট বসানোতে গণমানুষের মনে যথেষ্ট ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। এ পদক্ষেপ আর পরিস্থিতি যে আসলে কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে তা বোঝা মুশকিলের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে। তবে সে অবস্থাকে যুদ্ধ পরিস্থিতি বলে অভিহিত করার বদলে গণমানুষের আকাঙ্খা পুরণের দিকে লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply