একতা ডেস্কঃ কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পরিষদের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম এ সবুর, জাতীয় কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশিদ ফিরোজ, কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ মুসা, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অজিত দাস।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী। কৃষক ও গ্রামীণ মজুরেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও কৃষক তার ফসলের লাভজনক মূল্য পাচ্ছে না। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর ফাজ, জীবন ধারণের মতো মজুরি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কৃষক-ক্ষেতমজুর এখন নিঃস্ব। চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার নিশ্চয়তা নেই। কৃষি ঋণ, সার্টিফিকেট মামলা, এনজিও ঋণের কিস্তি, মহাজনী ঋণের সুদের কারবার কৃষক-ক্ষেতমজুরদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সব মিলিয়ে শোষণ, জুলুম, অত্যাচারের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে আছে কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন। কৃষকের ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই পর্যাপ্ত শস্য গুদাম ও হিমাগার। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ফসল জন্য কেন্দ্র না থাকায় লাভের টাকা চলে যাচ্ছে চাতাল মালিক, মধ্যসত্বভোগী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে। ভূমি অফিস, তফসিল অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ, সাব রেজিঃ, কৃষি ব্যাংক এবং ভিজিএফ, ভিজিডিসহ গ্রামীণ প্রকল্পসমূহে দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট, হয়রানি গ্রামীণ মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়।
কৃষকের জন্য পর্যান্ত ভর্তুকি নেই। নেই ক্ষেতজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য পর্যান্ত বরাদ্দ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে লুটেরা, স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর এদেশের কৃষক-ক্ষেতমজুর-গ্রামীন শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থার উত্তোরণ হবে বলে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। কিন্তু গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নাই। এই অনিশ্চিত জীবন থেকে কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীন জনগণ মুক্তি চায়। তাঁরা ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে চায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষক। মোট জনশক্তির মধ্যে কৃষিতে ৪৫.৪% নিয়োজিত থেকে এদেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। সরকার দেশের সামগ্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ‘কৃষি সংস্কার কমিশন গঠন করেনি। যার ফলে কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীন শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চরম হতাশ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে কোনো সংস্কারই বাস্তব রূপ পাবে না।
বৃহত্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কৃষক খেতমজুর শ্রমজীবী মানুষের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে কৃষি ক্ষেত্রে সংস্কার করতে হবে।

Leave a Reply