একতা ডেস্কঃ গণঅভুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ কায়েম করতে হবে। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান ‘২৪-এর আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আজো কায়েম হয়নি। দিনের পর দিন ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়েই চলেছে। গত এক বছরে ২৭ লক্ষ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। শহরে অনেক গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসকল শ্রমিক গ্রামে ফিরে বেকার জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের বেঁচে থাকার সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সভায় গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ কায়েমের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চালসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে গরিব মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সভায় ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশন, ষাটোর্ধ্ব মজুরদের বিনা জমায় মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশনের দাবি করা হয়। অথচ বর্তমান সরকার বয়ষ্ক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করেছে। সভায় বলা হয়, গ্রামের দরিদ্র মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। শহরে গিয়ে টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। নেতৃবৃন্দ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে সচল ও আধুনিকায়নের দাবি করেন। সভায় হাওর, বাঁওড়, বিল, খাস জলাশয়ের ইজারা বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে তা বরাদ্দের দাবি জানান। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির বরাদ্দ বেশিরভাগ লুটপাট হয়ে যায় উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বজনপ্রীতি-টাকার বিনিময়ে যারা দুঃস্থ, অস্বচ্ছল না তারাও এ খাতের বরাদ্দ নিয়ে যায়। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত থেকে যায়। এ থেকে আমাদের মুক্তি পেতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। গ্রামে গ্রামে ক্ষেতজুর সমিতির নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
২৫ জুলাই শুক্রবার সকালে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। আন্দোলনগত রিপোর্ট উত্থাপন করেন কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বণিক। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্রামের দরিদ্র মানুষ আজ এনজিওর জালে আটকা পড়ে আছে। তারা এক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করার জন্য একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নেয়। এক সময় তারা বাড়ি থেকে শহরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ সরকারকে এই ঋণের জাল থেকে গরিব মানুষকে মুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান। রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হাতে নিহত সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা প্রদীপ ভৌমিক হত্যাদিবসে ‘শহীদ প্রদীপ ভৌমিক দিবস’ আগামী ৪ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া আগামী আগামী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ প্রদীপ ভৌমিক হত্যার বিচার দাবি করেন।
Leave a Reply