অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য তথা ব্রিটেনের এমপি বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত রূপা হকের সাথে। রূপা হকের সংস্কার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেছেন দেশের জনগণ যতটুকু চায় ততটুকুই সংস্কার করা হবে। আসলে সংস্কার যতটুকুই করা হয়েছে তাতে কি জনগণের ধারধারা হয়েছে? কোথায় সংস্কার হলো, কটুকু হলো তা কিন্তু জনগণ ওযাকিবহাল নয় এখনো।
সাধারণ জনগণ কী চায়! তাদের চাওয়া কিন্তু আহামরি কিছু নয়। তারা চায় সারাদিন খেটেপুটে দুবেলা দুমুঠো অন্ন। আর রাতের সুখনিদ্রা। জনগণ সে সুখ কি পাচ্ছে! অনেকবার গণতান্ত্রিক সরকার এসেও মানুষের এই মৌলিক চাহিদার কথা ভেবেও দেখেনি কখনো। তারা গণতন্ত্রের নামে লুটপাট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে মাত্র। আর মুখে গণতন্ত্রের বুলি দিয়ে দেশের মানুষকে মাতিয়ে রেখেছে, বশ করে খেছে। আসলে মানুষ তাদের ভাত কাপড়ের অধিকার থাকগে পড়ে ভোটের অধিকারটুকুও ধরে রাখতে পারেনি শেষমেষ।
এরই মধ্যে ইরি চাষ শুরু হয়ে গেছে। কৃষকের সারের অভাবও দেখা দিয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। চড়া দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে তা। এর পরে আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বোধ করছে দেশের কৃষক। প্রত্যেকটি কৃষি উপকরণের দাম নাগালের বাইরে। আবার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম কতটা কম তা সবজি বাজারে গেলে বোঝা যাচ্ছে। এ খবর জানতে পত্রিকা পড়ার দরকার পড়বে না। সয়াবিন তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ, কৃষক যা কিনছে তার দাম অধিক। আর যা বিক্রি করছে তার দাম এত কম যে বিনামূল্যে বিতরণের মতই প্রায়।
জনগণ কিন্তু এ ব্যবস্থার সংস্কারটাই চাচ্ছে। জনগণ বলতে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষই তো কৃষক। মোট জনগণের মধ্যে তারাই একটি বৃহৎ অংশ। এই বৃহৎ অংশকে বাদ দিয়ে, তাদের সার্থকে বাদ দিয়ে যত সংস্কারই করা হোক, সে সংস্কার জনস্বার্থের সংস্কার হবে না। জনগণের চাহিদা মাফিক সংস্কার হবে না। আর এই সংস্কার সেই সব রাজণনৈতিক দল গঠিত সরকারের গলাবাজির মতো সংস্কার হয়ে থাকবে।
বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে স্বৈরাচার সরকারকে বিতাড়িত করে অন্তরবর্তী সরকারের প্রয়োজন উপলব্ধি করেছিল দেশ ও জাতি। এই সরকারের সংস্কারসহ কোন পদক্ষেপের মধ্যেই কোন বৈষম্য থাকাটা ’২৪-এর শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণা করা হবে। তাদের আত্মদানকে অসম্মান করা হবে। আবার আমরা নিকৃষ্টমানের জাতিতে পরিণত হবো।
এখন বাজার ব্যবস্থার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাণিজ্য খাতের সংস্কার করাটা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। গণমানুষ সত্যিই প্রশ্ন তুলছে, কোথায় সংস্কার করা হলো! মূল কথা হলো দেশের মানুষকে তো সংস্কারের স্বাদ পেতে হবে। তাদেরকে বঞ্চিত করে কোন সংস্কারই সুষম সংস্কার হতে পারে না। সত্যিই যদি গণমানুষের চাহিদা অনুযায়ী সংস্কার করতে চান, তাহলে অবশ্যই চাষির কল্যাণের কথা ভেবে, দেশের আপামর জনতার কথা ভেবে কৃষি উপকরণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করুন। চাষির উৎপাদিত ফসলের লাভজনক দাম যাতে কৃষক পায় সে ব্যবস্থাও করুন।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply