বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহঃ বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ৭ম ঝিনাইদহ জেলা সম্মেলন উপলক্ষে ৭ মে বুধবার, সকাল ১০টায় শহরের সুকান্ত সড়কের ফ্যামিলি জোনে (পাবলিক লাইব্রেরি সংলগ্ন) সম্মেলনে নির্মিতব্য বিপ্লবী বাঘা যতীন-কমরেড ইলা মিত্র মঞ্চে উদ্বোধনী সমাবেশ করা হয়েছে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি ঝিনাইদহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক সুজন বিপ্লবের সভাপতিত্বে ও বায়েজিদ চাষা এবং আরিফুল ইসলাম মিটুল যৌথভাবে উদ্বোধনী সমাবেশ সঞ্চালন করেন। সমাবেশে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঝিনাইদহ জেলা সংসদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঁওড় ও জলমহালের জীবিকা থেকে উচ্ছেদের শিকার মৎস্যজীবীরা জেলেরা সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান, বিশেষ অতিথি বর্ষিয়ান কৃষকনেতা রবিউল আলম খোকন ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক জেলা আহ্বায়ক স্বপন বাগচী বক্তব্য রেখেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ ফজলুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের গ্রামাঞ্চলে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। সারা বছর কাজ, ন্যায্য মজুরি, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা থেকে এখনও গ্রামের এসব দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত। অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা ও গ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। লড়াই-সংগ্রাম করেই অধিকার আদায় করতে হবে নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষেতমজুর সমিতিকে শক্তিশালী করে এ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান করোনা মহামারিকালেও গরিব মানুষের নামে বরাদ্দকৃত অনুদানের টাকাও লুট হয়ে গেছে। সরকারের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সরকারি দলের টাউট বাটপারদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ আদায় করতে হবে। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির লড়াই চলছে। ১৯৮১ সালের পূর্বে এই শ্রেণীর মানুষের কোন সংগঠন ছিলনা। ক্ষেতমজুর সমিতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ এই শ্রমজীবী মানুষের ভরসার স্থান হয়ে উঠে এই সংগঠন। ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুররা সারা বছর কাজ চায়, ন্যায্য মজুরি চায়। সরকার গরিবদের উন্নয়নের কথা বললেও গরিবদের উন্নয়ন হয়নি, বরং দেশে দ্রুত কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড করেছে। অপরদিকে গরিব মানুষ কর্মহীন হয়ে বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। লুটপাট-দুর্নীতিমুক্ত গরিব মানুষের কল্যাণের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার দেশ গঠনের মধ্য দিয়ে। যার নেতৃত্বে থাকবে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামের শ্রমজীবী গরিব মানুষের প্রতিনিধিরা। তাই নতুন প্রজন্মকে সাধারণ মেহনতী মানুষের পক্ষে অধিকার আদায়ের লড়াই অগ্রসর করার আহ্বান জানাচ্ছে আজকের এই সম্মেলন। সারা বছর ক্ষেতমজুরদের যেমন কাজ থাকে না তেমনি সারা বছর মজুরিও এক রকম থাকে না। নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য বেড়েই চলেছে। অসহায় নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবি করলে তাদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। গ্রামেগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী-শিশু ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। অবিলম্বে নির্যাতন-নিপীড়ন-ধর্ষণ বন্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গ্রামীণ বরাদ্দ লুটপাট বন্ধ কর, পল্লী রেশনিং চালু কর’- এ শ্লোগানকে ধারণ করে আন্দোলন সামিল হতে হবে। ২০০৩ সালে ২০ অক্টোবর ক্ষেতমজুর সমিতির আন্দোলনের ফলে মঙ্গার হাত থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে। ক্ষেতমজুর সমিতির আন্দোলনের ফলে খাস জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টনের আইন হয়েছে। ক্ষেতমজুর সমিতির আন্দোলন সংগ্রামের জন্যই কাবিখা, টিআর, জিআর, কাবিটা, ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, দুস্থমাতা ভাতা, প্রসূতী ভাতাসহ গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি চালু হয়েছে। যা মূলত আমাদের গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের ফসল।
Leave a Reply