আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। সাদেশে দিবসটি পালিত হয়েছে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে। সারাদেশে যত লোকে আজ সমবেতভাতে ধুমপানবিরোধী আওয়াজ তুলেছে, আমার মনে হয় এই পরিমাণ অধুমপায়ী লোক বাংলাদেশে নেই। এর মধ্যে অনেকেই বিড়ির প্যাকেট পকেটে নিয়ে ধুমপানবিরোধী র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে তামাকমুক্ত দিবসে অবশ্যই ধুমপানবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তারপর হলরুম থেকে বেরিয়ে এসে খুব তাড়ঘাড় করে বিড়িটা মুখে দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
তাহলে শুধুই লোক দেখানোর জন্য এসব আয়োজন করে কোন লাভ হচ্ছে না আমাদের। বিগত সময়ে আমরা একাধিকবার শুনেছি টোবাকো কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। নতুন কোন টোবাকো কোম্পানির লাইসেন্স দেয়া হবে না। তারপরও আমরা দেখছি নতুন নতুন ব্রন্ডের সিগারেট বাজারে আসছে। তাতে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন রকম নিষেধাজ্ঞা আসছে না কঠোরভাবে।
বিগত সময়ে আমরা দেখেছি প্রকাশ্যে ধুমপান করলে জরিমানা দিতে হবে এমন ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিছুদিন এমন নাটক চলেছিল বটে। তাতে কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি বাঙালির জাতীয় জীবনে কিংবা রাষ্ট্রব্যবস্থায়। টোবাকো কারখানা এলাকায় তামাকের চাষ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।
আসলে তামাকের চাষ যদি বাড়তেই থাকে, তার উৎপাদনের অগ্রগতি অব্যাহত থাকে তাহলে কেবল র্যালি আর আলোচনা করে তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়া আদৌ সম্ভব হবে কি! কখনোই তা সম্ভব নয়। তারচেয়ে আসুন, আমরা যেকোনো একপথে চলি। হয়, বেশি অর্থ আয় করার লোভে তামাকের মতো ক্ষতিকর ফসল উৎপদনের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়ে পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই। অথবা অর্থ আয়ের আরো বিকল্প অনেক ভালো ভালো উপায় খুঁজে নিয়ে তামাকের ছড়াছড়িকে সরাসরি ‘না’ বলে দিই। সুষ্ঠ পরিবেশ গড়ে তুলি।
সর্বশেষ আমরা আজকের এই তামাকমুক্ত দিবসে যদি সত্যিই তামাকমুক্ত সুন্দর পরিবেশ গড়তে চাই, তাহলে প্রথমেই আসুন তামাক চাষের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। আর অধুমপায়ীদেরকে বিশেষভাবে সম্মান দেখাতে শিখি। যাতে অন্য একজন ধুমপায়ী তার বদভ্যাসটি ত্যাগ করে অধুমপায়ী হতে উৎসাহ পায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের কচিকাচা সেন্তানদের ওপর বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। বর্তমান প্রজন্মে ছেলেরা খুব কম বয়সেই নেশার বাধ্য হয়ে উঠছে। মাধ্যমিকে যেতে না যেতেই তাদের লাল টুকটুকে ঠোঁট দুটো একেবারে কয়লার কালিতে লেপে যাচ্ছে। এ থেকে আস্তে আস্তে তারা আরো ভয়াবহ মাদকের নেশাও পেয়ে যাচ্ছে। এভাবে আমরা আমাদের ভাবষ্যৎ প্রজন্ম নষ্ট হতে দেখছি দু’চোখ পেতে। আসুন, আমরা সজাগ হই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য মাদককে ‘না’ বলি। তামাক চাষকে ‘না’ বলি।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply