একতা ডেস্কঃ পাঠ্যবই ছাপার কাজে কমিশন বাণিজ্য ও জেলা প্রশাসক নিয়োগে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে। তাই তাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এনসিপি। ২১ এপ্রিল দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তানভীরের কাছে পাঠানো হয়। উল্লেখ করা হয়, এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের কাছে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে তানভীরকে। একই সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না।
গাজী সালাউদ্দিন তানভীর গণমাধ্যমকে বলেন, সচিবালয়ে আমি মাত্র পাঁচবার গিয়েছি। এর মধ্যে একবার কোম্পানির কাজে, আর চারবার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে। এনসিপিতে আমার পদ ফিরে না পাওয়ার মানেই আমাকে অভিযুক্ত করা, এটা আমি মানতে পারি না। আমি এখনো নিজেকে নির্দোষ মনে করি। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হলে সেটা পরিষ্কার হবে। যদি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণ না হই, তবে স্বেচ্ছায় জেলে যাবো।
তিনি আগে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাঠ্যবই ছাপার বাস্তবতা জানাতে। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছিল। ছাপাখানার সিন্ডিকেট সম্পর্কে জানাতেই এনসিটিবিতে যাওয়া হয়েছিল। শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে কোনো কাজ করিনি।
তানভীর বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সচিবালয়ে যাওয়া অপরাধ হতে পারে না। সেখানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তার এপিএসের মাধ্যমে প্রবেশপাস পাই। তাকে বলেছি, আওয়ামী দোসরদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। দুর্নীতি এবং কর্মকর্তাদের ফেসবুক অ্যাক্টিভিটি নজরে রাখতে হবে। পরে দায়িত্ব পান ড. মোখলেসুর রহমান। তাকেও একই কথা জানাতে যাই।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এনসিপি যে অবস্থান নিয়েছে, সেটাই আমাদের দলীয় ভিত্তি। এখন আর আগের মতো মানুষকে অহেতুক হয়রানি, জঙ্গি নাটক সাজানো, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হেনস্তা করা যাবে না। আমি বিশ্বাস করি, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেয়নি।
Leave a Reply