আজ পয়লা ডিসেম্বর। বিজয়ের মাস শুরু। সরকারীভাবে মাসব্যাপী কোন কর্মসুচী আছে বলে চোখে পড়েনি। হয়তো বা নেই। এটিও ভাল দিক। মনে না চাইলে তা অভিনয়ের ছলে না করাই ভাল। যেমন বিগত আওয়ামীলীগ সরকার করতো। তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করতো। মুক্তিযুদ্ধ আর ‘৭২ সালের সংবিধান নিয়ে তারা কতই না নাকি কান্না কেঁদেছে। হাউ-মাউ করেও যে কাঁদেনি তা কিন্তু নয়। কেঁদে একেবারে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছে। কিন্তু কাজের বেলায় কওমী জননী খেতাব টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ, সেই ‘৭২-এর সংবিধান কার্যকর করার দাবি নিয়ে সিপিবিসহ বামদলগুলো রাজপথে নামলে তাঁদেরকে পুলিশ এবং আওয়মী পেটুয়া বাহিনী দিয়ে মেরে মাঠছাড়া করে দিয়েছে। আবার শ্রীঘরেও ঢুকিয়েছে। ‘৭১-এর সহযোদ্ধা এই বামেদেরকে তারা সতীনের মতো দেখে এসেছে হেফাজতপুত্রদের কওমী জননী। পরিণতি কী হলো। সারাবিশ্ব তা প্রত্যক্ষ্য করলো। কওমী জননীর সেই হেফাজতপুত্ররা তাকে বৃন্দাবন পাঠিয়ে দিল। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সাথে বেঈমানী করলে, মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলা করার পরিণতি হাতেনাতে পেয়ে গেলেন তিনি। সেইসাথে অস্থিতিশীল করে রেখে গেলেন দেশকে।
সেই ঘটনা থেকে শুরু হয়ে আবার নতুন ঘটনায় রূপ নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশকে হট্টগোলের মুখে ফেলে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। ঠিক সেই কাজ শুরু করেছে ইস্কন। সমস্ত হিন্দুদের আন্দোলনের নামে নাচিয়ে এখন বিপদের আশঙ্কা দেখে তারাও পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। আজকের এই বিজয়ের মাসের শুরুর দিনেই গণমাধ্যমের খবরে পাওয়া যাচ্ছে ইস্কনের অর্ধশতাধিক গেরুয়া বেশধারী ভারতে যাওয়ার জন্য বেনাপোল চেকপোস্টে গিয়ে ভিড় জমিয়েছেন। ইমিগ্রেশান পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। তাহলে তারা যখন পালিয়ে যাচ্ছেন, যারা তাদের কথা শুনে আন্দোলন করতে গিয়ে বিপদে পড়লো, তাদেরকে তারা কী সান্ত্বনার বাণী দিয়ে যাচ্ছেন!
পরিশেষে আজ বিজয়ের মাসের শুরুর দিনে দেশে সবধরনের অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য সকল দেশপ্রেমিক ও শান্তিপ্রিয় মানুষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোন রকমই যেন দেশের শাস্তি ও প্রগতি ব্যাহত না হয়ে যায় সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply