প্রসঙ্গঃ নতুন রাজনৈতিক দল
সমস্যা যার চোখে পড়ে সে-ই সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে। কিন্তু তার সমাধান সবাই পারে না। সমাধানের জন্য প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট কিছু লোক, সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান। আর তা হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে আবার বিভিন্ন শাখায় ভিন্ন ভিন্ন বিশেষজ্ঞগণ নিয়োজিত থাকেন, যারা উক্ত বিষয়ের ওপর সর্বদা গবেষণায় মত্ত থাকেন। আর সমস্যাগুলো তারা যখন সমাধানের চেষ্টা করেন, তখন মোটামুটি আস্থা রাখা যায় যে সমাধান সম্ভব হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ও। আবার কখনো কখনো অমিমাংসীতও থেকে যায়।
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষেরা যথেষ্ট বুঝতে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। আর সেসব সমস্যার সমাধান চেয়ে দেশে আন্দোলন সংগ্রামও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবিদের সঙ্গে সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দলও রাজপথে রয়েছে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি নিয়ে। এমনকি বর্তমানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তরবর্তী সরকারের আমলেও আন্দোলন থেমে নেই। বরং আরো গতিবৃদ্ধি হচ্ছে উত্তরোত্তর। তার কারণ হলো, অন্তরবর্তী সরকার যে নিরপেক্ষ অবস্থানে আছে তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এ সরকার। আইন শৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক মাত্রায়। দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না, কার ইশারায় বা কার খুশিতে সরকার এমন ভূমিকায় নেমেছে। এর পূর্বে বাংলাদেশে যতবার যতগুলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা এসেছে, তার কোনটিই বর্তমান সরকারের মতো এমন সমালোচনার পাত্র হয়নি। এতটা ব্যর্থতা প্রদর্শন করেনি।
আর এই ব্যর্থতা বা ত্রুটিগুলো সাধারণ মানুষেরাই ধরতে পারছে। আর সমাধানের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তার সমাধানের উপায় তো আর জনগণ জানে না। উপায় জানার কথা রাজনীতিবিদদের। রাজনীতিবিদরা কেবল সমস্যার কথা বলে না। তারা সমাধানের উপায়ও বলে দেয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেভাবে অর্থাৎ গণমানুষের চাহিদা অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করে।
যে কারণে এতগুলো কথা বলা হলো, তা হচ্ছে আমাদের দেশে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। সদ্য প্রকাশিত এ নতুন দলের নেতাগণ দেশের বড় বড় সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরেছেন তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে। অনেক ভাল ভাল কথাও বলেছেন তারা। কিন্তু ভাল ভাল কথা বলার সাথে সাথে ভাল কাজটি করার একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ থাকতে হবে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন থাকতে হবে। থাকতে হবে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। তাদের বক্তব্যের মধ্যে সেই দর্শন আর দূরদর্শিতার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দলটির নেতাদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এটুকু জানা গেছে যে, তারা মধ্যপন্থী হিসেবে রাজনৈতি পরিচালনা করার আগ্রহ তাদের। আসলে রাজনীতিতে মধ্যপন্থা বলে কোন পন্থা নেই। ডান এবং বামপন্থার মাঝামাঝি কোন পন্থা নেই। আর এই মধ্যপন্থা বলে দুই পন্থার আস্থাভাজন হয়ে থাকার একটি ব্যর্থ চেষ্টামাত্র। অতঃপর দেখা যাবে সেটি ডানপন্থার পথ অবলম্বন করছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুদ্বপূর্ণ, তা হলো অসাম্প্রদায়িক, সাম্প্রদায়িক এবং উগ্র-সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। এই তিনটির মধ্যে বেছে নিতে হবে কোন দিকে তাদের যাত্রা হওয়া উচিত। আর তা এখনই গণমানুষের সামনে খোলাসা করে দেয়া উচিত। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে গোলকধাঁধার মধ্যে রাখাটা কোন রাজনৈতিক দলের অধিকারে নেই।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply