কবি পরিচিতিঃ ১৯৭৭ সালের ২৫ নভেম্বর মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলাধীন দীঘলগ্রামে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তার লেখালেখির প্রতি তার ঝোঁক। লিটলম্যাগসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপাতাহিকে তার লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, সমসাময়িক রাজনৈতিক নিবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবে রিভিউ ছাপা হয়ে থাকে মাঝে মধ্যেই। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি তিনি একটি অনলাইন পোর্টালে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১। কুমারী চাঁদ
তুমি ঘুমিয়ে গেছো-
আমার সময় হলো এখন
জ্যোৎস্নার সাথে কথা বলা
তোমার কপালে সবচেয়ে দামী চুম্বনটি আঁকা।
হৈমন্তি-শুক্লা তিথির চাঁদ তাকিয়ে আছে অপলক
যে কোনোদিন দেখেনি কৌমার্য দানের খেলা
আমি যদি চুপি চুপি তোমার ঘুম ভাঙ্গাই
কুমারী চাঁদও শিখে নেবে কৌমার্য দিয়ে
কতটা কুমারীত্ব ধরে রাখে সবুজে ভরপুর
রাত্রি, দুপুর, শস্যময় পৃথিবী।
২। লাল
কথা ছিল মিছিলে যাবে
আর বসে আছো রতি পূজার মঙ্গল-ঘট সাজিয়ে নিয়ে
কী হবে বিবর্তনবাদের শ্লোগান
গোল্লায় গেছে এখানেই বীর্য ঢালো তোমার মহা বিপ্লবের
দেখোনি ছিড়ে তন্ন তন্ন হয়ে গেছে লাল পতাকা ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড
দণ্ডগুলো ধরে রেখেছে বিশ্বায়নবাদীরা কেউ দেখাবে না
তোমাকেই নামতে হবে তুমিই নামাও পথে
তোমার অদম্য ঔরসে উত্তরোত্তর জন্ম দাও লাল
আজ পায়ের তলায় লাল মাথার ওপর বজ্রমুষ্ঠিতে ধরো লাল
লালে লালে একাকার হলে আসবে লাল
দাঁড়াও তুমি এত লাল চাও কেন আর কিছু নেই প্রিয়
ওটাই যে মিছিলের রঙ!
৩। রয়ে গেল বাকি
ওই দেখো-
ওখানে ওই নদীর চরে
এখনই ডুবন্ত সূর্যের লাল আভাটা পড়লেই
কৌমার্য আসবে নদীর তুমি হয়ে উঠবে কবি
ইনিয়ে বিনিয়ে কত কাব্য আওড়াবে তাকে নিয়ে
একবারও হতে চাইবে না প্রেমিক
যে টানে এত দূর থেকে ছুটে এলে দেখে চোখ জুড়ালে
তৃষ্ণা বাড়ালে বলতে পারলে না তো একটি চুম্বনের কথা
দেখলে না তার কিছুই আসলেই তুমি ভীরু
তুমি তো জানোই নদী আর আমি সমগোত্রীয়া।
৪। বারবণিতা
সেদিন হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো পথ
আরেকটি পথ এসে গেল মিশে তুমি বললে মোহনা
আমি বললাম- না এটাকে সঙ্গম বলে
আঁচলে মুখ ঢেকে প্রসঙ্গ এড়াতে তুমি বললে
পথিকের পদচারণাই বাঁচিয়ে রাখে পথ
আমি ঠিক উল্টোটা বলি
পথিকের ধর্ষণের দাগ লেগে স্পষ্ট হয় বিক্ষুব্ধ পথের কায়া
মানুষ হয় তার পথিক পথ হয় ধর্ষিতা
নারী হয় বারবণিতা।
৫। প্রেরণা
প্রান্তিকা-
তুমি আকাশ হতে চেও না
চোখ খুললেই দেখতে পাই ওকে
একটু ছুঁতে পারি না
এ যে কত কষ্টের-
সে তুমি জানো না
তুমি বাতাস হইও না গো
আমি সারাক্ষণ ওর স্পর্শ পাই
চোখে দেখতে পাই না
তুমি কি জানো-
এ আমার জন্য কতটা বেদনার
ও সব থাক তুমি ‘তুমি’ হয়েই থাকো প্রান্তিকা
সেটাই আমার প্রেরণা হোকতুমি থাকো এখানে
আমার প্রেরণা হয়ে।
Leave a Reply