কবি পরিচিতিঃ ১৯৭৭ সালের ২৫ নভেম্বর মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলাধীন দীঘলগ্রামে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তার লেখালেখির প্রতি তার ঝোঁক। লিটলম্যাগসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপাতাহিকে তার লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, সমসাময়িক রাজনৈতিক নিবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবে রিভিউ ছাপা হয়ে থাকে মাঝে মধ্যেই। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি তিনি একটি অনলাইন পোর্টালে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১ নং কবিতা
ত্রিকোণের কিনারে
আমাকে খুশি রাখতে কেউ সারাদিন
ব্যস্ত রাখে নিজেকে
আমার জন্য এ এক পরম ভালোলাগা
বলতে পারো ভালোবাসাও
আমার ভালোবাসার হাতেখড়ি দিল সে।
নিহত দিনের দহন পর্বটা জানি সবে শুরু
এরপর আসবে পথচেয়ে বসে থাকা
ছন্দ আর কবিতায় বেঁচে থাকা কবির
ঔদ্ধত কলমের বলিরেখা।
কালিতে ছেদ পড়ে না প্রেমে
দূরকে কাছে টানে অদেখা সৃষ্টি
আমাদের জালবোনার দিন
শেষ হয় না ত্রিকোণের কিনারে।
২ নং কবিতা
নষ্টামীর আবাদ
সেখানেই পড়ে ছিল দুর্যোগের আলামত
যেখানে ছিলে তুমি- আমিও।
আমরা চেয়েছিলাম ভালোবাসার উত্তাপ দিয়ে
ওকে গলিয়ে দেব।
ও টেনে ধরেছিল আমাদের দু’জনকেই
ভেবেছিল গুলিয়ে নেবে আমাদের সময়টাকে
হৃদয়ের টানে আমরাও হলাম বিবাগী
কী আনন্দিত সে!
ওকে গলাতে না পেরে দু’জন দু’দিকে ধরে টানি
ছিন্নভিন্ন করে দেব ওর সারাটা ভৌগলিক চিহ্ন
ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল ওর রক্ত আর বীর্য
সমাজের আনাচে কানাচে।
আমরা হলাম দুই মেরুবাসী
আজ আর দেখা নেই কথা নেই সঙ্গতিহারা উত্তাপ
উত্তরোত্তর জন্ম নেয় বিষ পাপ
অবাদে চলে নষ্টামীর আবাদ।
৩ নং কবিতা
মহাকালের ডোম
মানবতা এখন লাইফসাপোর্টে
বোর্ড বসিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ
রেপার্টরিতে উঠে আসে বদহজমী ঢেকুর।
ভালোবাসা, প্রেম নিয়ে মেতে থাকা
উপেক্ষিত জীবনের মূল্যবান সময়
বিশেষ গুরুত্ব পায় হৃদয়ের রক্তক্ষরণও।
এখনো সম্পন্ন হলো না চূড়ান্ত প্রতিবেদন
ওদিকে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত
কর্মব্যস্ত এক মহাকালের ডোম।
৪ নং কবিতা
অপ্রত্যাশিত প্রত্যাশা
চারিদিকে এত ভাংচুর দেখে আমার কোন অনুভূতি নেই
কারণটা অনেক আগে থেকেই এসব সয়ে নিতে শিখেছি
যা অভ্যেসে পরিণত হয়েছে বললে ভুল হবে না মোটেই
এই চোখের সামনে কত গ্রাম জ্বলেছে দাউ দাউ করে
ধর্ষিতা হয়েছে কত নারী আর নাবালিকা দেখেছি সব
সেদিন খুব জোরে চিৎকার দিয়েছি শোনেনি কোন লোক
গেরুয়া বসন দেখলেই জবাই করে দিয়েছে দিনে দুপুরে
ধর্মযাজকেরা বসন খুলে, টিক্কি কেটে ফেলে সাধারণ বেশে
পালিয়ে গেছে অন্য দেশে কেউ দেখেনি আমি দেখিয়েছি তা
শোনেনি আমার আর্ত চিৎকারও কোন হৃদয়বান মানুষের দল
ওরা ভেঙেছে আমার ঘর জ্বালিয়েছে প্রতিবেশির বাড়ি
কেউ পাশে দাঁড়াতে আসেনি সেদিন শুনেছিলাম ও-বাড়ি থেকে
কেউ বলছিল এটি রাজনীতির পুঁজি ভোটের কারখানা
বুকে পাথর বেঁধেছিলাম সেদিনই আর অপেক্ষায় আছি
ছুরিতে ধার দিতে দিতে কখন বলবে গলাটা এগিয়ে দে
আজো সেই অপেক্ষাতেই; তাই কোন অনুভূতি নেই।
৫ নং কবিতা
ভুল সময়ের যাত্রী
ঠিক সময়েই ট্রেন চলে গেছে
বড় দেরি করে ফেলেছি আমরা
আর যেন না উঠে বসি
ভুল গন্তব্যের ট্রেনে।
প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে শুনছি অগণিত
ভিন গন্তব্যগামী ট্রেনের গলাবাজি
যাত্রীরা ভিড় করে আছে
আনন্দ উল্লাসে শঙ্কায়।
ট্যাগের ভুতেরা পায়তারা করে
আমাদের চোখের সামনে ওরাই
সমাপ্ত
Leave a Reply